ছোট গল্পের সন্ধানে || কলমে অয়ন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    আনন্দ, উদ্বেগ আর প্রত্যাশার গণ্ডি পেরিয়ে চতুর্থ বারের জন্য অপেক্ষা দায়িত্বের। সেই দায়ভার থেকেই জন্ম এই চতুর্থ সন্তানের। আগের বারের "মৃত্যু রহস্য"র পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলির ডাক পড়েছে এক জটিল সমস্যার সমাধানে। গ্রাম বাংলার এক সুন্দর প্রকৃতির প্রেক্ষাপটে ঘটে চলেছে অদ্ভুত সব ঘটনা। যাকেই সে সন্দেহের তালিকায় আনছে, হঠাৎ করে সে-ই খুন হয়ে যাচ্ছে। সৌমিলি কি পারবে এই কেস সলভ করতে❓ তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার চতুর্থ বই "আই ক্যান্ডি" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৫ এ ক্লিক করুন

  • বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

    প্রথম বারের আনন্দ আর দ্বিতীয় বারের উদ্বেগের গণ্ডি পেরিয়ে তৃতীয় বারের জন্য অপেক্ষা প্রত্যাশার। সেই থেকেই জন্ম এই তৃতীয় সন্তানের। আগের বারের "পায়ে পায়ে রহস্য" র সাফল্যের পর ইয়ং ইন্সপেক্টর সৌমিলি সমাধান করে ফেলেছে আরও কিছু জটিল কেস। তারই গল্প বলতে প্রকাশিত হচ্ছে আমার তৃতীয় নতুন গল্পের বই "মৃত্যু রহস্য" এবারের কলকাতা বইমেলা ২০২৪ এ। আশা করি এই বই আমার পাঠকদের আনন্দ দেবে বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    আজকের দুনিয়ায় টেকনোলজিও যত উন্নত হয়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্য নতুন অপরাধের ধরণ। একজন ইয়ং ইন্সপেক্টর কিভাবে কেসের পর কেসের কিনারা করবে, তারই বেশ কিছু ঝলক থাকবে পাঠকদের সামনে। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন

  • প্রতি সপ্তাহে নতুন গল্প

    গল্প পড়ার থেকে শুনতে বেশি ভালবাসেন? বাচ্ছারা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় গল্প শুনতে চায়? তাহলে দেরী না করে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন ইউটিউব চ্যানেলটা, আর বেল আইকন টা প্রেস করতে ভুলবেন না। আসছে প্রতি শুক্রবার রাত ৯ টায়। সঙ্গে থাকুন।

  • #ভোকাট্টা#

    চারপাশের আকাশে শুধু রঙ বেরঙের ঘুড়ি। এখনকার মত নানারকমের ক্যামেরা না থাকলেও ছবি গুলো উজ্জ্বল হয়ে থাকত স্মৃতির মণিকোঠায়। মাঝে মাঝে তারস্বরে চিৎকার, “ভো কাট্টা!

  • #অরণ্যে দুই রাত্রি#

    কথায় বলে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। কিন্তু এই বিগত দেড় বছরের করোনা পরিস্তিতিতে সবার মত তারাও হয়ে পড়েছিল ঘরবন্দি। তাই এখন একটু পরিস্তিতি ঠিক হতেই সবাই আবার বেড়িয়ে পড়েছে কাছে পিঠে। সেই রকমই একটা উইকএন্ড ডেসটিনেশনের কথা

  • কেনার জন্য ক্লিক করুন

    মুঠোফোনের দুনিয়ায় আমার প্রথম বই শব্দের স্বরলিপি এনে দেবে একরাশ মুক্ত বাতাস। বিশদে জানতে ক্লিক করুন


Best Bangla Books to Buy in 2024

স্বর্ণাক্ষর

স্বর্ণাক্ষর

#স্বর্ণাক্ষর
#কলমে_অয়ন 

কলকাতার গড়িয়াহাটের এক পুরোনো দোতলা বাড়ির উপরের ঘরে সকাল হয়েছে। কিন্তু অনন্যা সেনের চোখে-মুখে সেই সকালের জৌলুস নেই। ঘড়িতে সকাল ৭টা। কাঁচা ঘুম চোখে সে উঠে দাঁড়াল, চোখ রগড়াতে রগড়াতে বাথরুমে ঢুকে গেল। একটু পরেই অফিসে বেরোতে হবে। 

চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ফোনটা খুলতেই দেখল অজস্র বিজ্ঞাপন—“অক্ষয় তৃতীয়ার অফার!”, “আজই কিনুন সোনা!”, “আপনার সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ শুরু হোক আজ!”


সে হালকা বিরক্ত হয়ে ফোনটা রেখে দিল। নিউজ পেপার টা খুলে দেখতে গিয়েও সেই প্রথম পাতা থেকে শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনের মায়া জালে হাঁসফাঁস করে উঠল। অক্ষয় তৃতীয়া—মা বলত, “এদিন নতুন কিছু শুরু করলে সেটা অক্ষয় হয়, চিরস্থায়ী হয়।” ছোটবেলায় এই দিন মানেই ছিল বাবার কাছ থেকে কিছু একটা জিনিস, হয় নতুন বই, নয়তো নতুন জামা আর মায়ের হাতের সুজি খিচুড়ি।

কিন্তু এখন দিনগুলো কেবল কর্পোরেট মিটিং, মেইল আর মাইনে-চিন্তার ঘূর্ণি।

ঠিক সেই সময় ফোনে মায়ের মেসেজ, সকালে ব্যস্ত থাকে বলে বিশেষ কোনো দরকার ছাড়া পারতপক্ষে ফোন করে না মা —

“আজ অক্ষয় তৃতীয়া। নতুন কিছু একটা কিনে নিস। জীবন তোর সামনে পড়ে আছে, আমাদের আশীর্বাদ রইল।”

মেসেজটা একবার দেখে যেন হালকা আলো ছুঁয়ে গেল অনন্যার মনের ভিতর। সকালের মন খারাপ টা যেন নিমেষে উধাও। 

দুপুরে অফিসের ক্যান্টিন। সবাই ফোনে ব্যস্ত। কেউ বলছে, “আজকে এক গ্রাম সোনার দাম বেশ ভালো, আই মিন একটু কমেছে, নিয়ে নিচ্ছি।”

“আমি তো অ্যাপে অলরেডি বুক করে ফেলেছি এক গ্রাম সোনা,” মৃদু গলায় জানাল অর্ণব।

স্নিগ্ধা, ওর ডেস্ক-পার্টনার, হেসে বলল, “তুই কী নিচ্ছিস আজ অনু? সোনা? না ক্রিপ্টো?”

অনন্যা হেসে বলল, “সোনা কিনে কী হবে? এখন তো নিজের ভবিষ্যৎটাই টিকিয়ে রাখতে পারি না।”

স্নিগ্ধা মুচকি হেসে বলল, “তুই না একদম বুড়িদের মতো কথা বলিস। একটু ভাবনায় পজিটিভ হ। অক্ষয় তৃতীয়া না আজ!”

অনন্যা হাসল, কিন্তু ভিতরে ভিতরে চিন্তা করছিল। বাবা তিন মাস ধরে অসুস্থ, চিকিৎসার খরচ ওর হাতেই। চাকরিটা ভালো হলেও সঞ্চয় খুবই কম। সোনা কেনা দূরের কথা, মাসের শুরুতেই এডুকেশন লোনের ই এম আই-ই গলায় ছুরি হয়ে দাঁড়ায়।


সন্ধেবেলা ছাদে বসে হালকা বাতাসে চুল উড়তে উড়তে সে নিজের পুরোনো গুগল ড্রাইভে ঢুকল। এক সময় সে ওয়েব ডেভেলপার হতে চাইত। কিন্তু আর্থিক অসঙ্গতি তে ইঞ্জিনিয়ারিং না করে অনার্সের পরে খুঁজে নিতে হয়েছিল একটা ঠিকঠাক চাকরি। কিন্তু সুযোগ পেলেই চেষ্টা করত কিছু শেখার, কিছু অনলাইন কোর্সে ভর্তি হবে ভেবেছিল। কিন্তু চাকরির চাপে, আর বাবার অসুস্থতায় সব বন্ধ করে দিতে হয়েছিল

হঠাৎ সে দেখল—একটি কোর্স প্ল্যাটফর্মে সাবস্ক্রিপশন মেইল এসেছে— কোডিং উইথ পাইথন।

“আজ অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে পান ৫০% ছাড়। নিজের ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করুন আজ।”

যদিও অফারের পরেও বেশ দাম কোর্স টার। 

মনে হলো—সবার মতো সোনা না হোক, সে যদি তার নিজের “স্বপ্নে” আজ বিনিয়োগ করে?

সে ব্যাঙ্ক অ্যাপ খুলে ব্যালান্স চেক করল। সামান্য টাকা আছে। মাসটা একটু কষ্ট করে চললে—হতে পারে।

সে নিঃশব্দে সাবস্ক্রিপশন বাটনে ক্লিক করল।

পরদিন থেকেই শুরু হলো অনন্যার নতুন রুটিন। অফিস শেষ করে বাড়িতে ফিরে খাওয়ার পর, রাত ১০টা থেকে —শুধু কোডিং আর প্র্যাকটিস।

প্রথমে খুব কষ্ট হচ্ছিল। মন বসত না। ঘুম পেত। ক্লান্ত লাগত। মনে হতে লাগলো না আর পারবে না সে। 

কিন্তু প্রতি রাতে মায়ের বলা কথাগুলো মনে পড়ত—

“যে রোজ নিজের জন্য কিছু শেখে, সে কখনো হারে না।”

একসময় সেই কোড লাইনে সে সৌন্দর্য খুঁজে পেল। নিজে ছোট ছোট ওয়েব অ্যাপ বানাতে শুরু করল। নিজের ল্যাপটপে, আর গিটহাবে আপলোড করে রাখত।

ছয় মাস পর, এক সন্ধ্যায় মেইল চেক করছে, হঠাৎ একটা মেইল পেল। তার বানানো একটি ‘প্রোডাক্টিভিটি টুল’ হ্যাকারনিউজে ফিচার হয়েছে। অনেকেই তা ব্যবহার করছে।

তারপরেই কিছুদিনের মধ্যেই আসে প্রথম অফার—একটি ইউএস-ভিত্তিক রিমোট টেক স্টার্টআপ তার ইন্টারভিউ নিতে চায়। ভালই যায় সেটা। তবে সব শেষে ওর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি না থাকায় ওনারা বেশ আশাহত হন। তাই বিশেষ কিছু আশা করে না অনন্যা।

এক সপ্তাহ পরে সে অফার লেটার পায়—তার বর্তমান চাকরির দ্বিগুণ বেতনের রিমোট জব!

সে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল বারান্দায়। চারপাশে আতশবাজির শব্দ— কি একটা খেলায় মোহনবাগান চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তারই উৎসব করছে ছেলে ছোকরাদের দল। আর তার মনের ভিতর বাজছে একটাই কথা—

“এই হলো আমার সোনার পুঁজি। আমার অক্ষয় তৃতীয়া।”

অনন্যা এখন নিজেই একটি ছোট টিম লিড করে। ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট বুক করেছে কলকাতায়। কিছুদিন হল বাবা মা কে নিয়ে এসেছে এখানে। বাবা এখন অনেকটাই সুস্থ, মায়ের হাসির রেখা গভীর হয়েছে, সে দেখতে পায় এক শান্তির নীরবতা।

এক বছর কেটে গেছে। আজ আবার অক্ষয় তৃতীয়া।

অনন্যা আজ নিজের টেবিলে এক ফ্রেমে পুরোনো স্ক্রিনশট রেখে দিয়েছে—

তার প্রথম কোড করা অ্যাপের হোম স্ক্রিনে লেখা—

“Let this be my beginning. Let it last forever”

মা এসে বললেন, “এই বছর সোনা কিনবি না?”

অনন্যা হেসে বলল, “আমি আজও কিনেছি মা—একটা নতুন কোর্স। এবার ডেটা সায়েন্স!”

মা কিছুটা অবাক হয়েই চুপ করে তার দিকে তাকালেন। চোখের কোণে অশ্রু।

অনন্যা নিজের মনে মনে ভাবল—

“এই গল্পটা কখনও বন্ধ হবে না। কারণ আমি নিজেকে এভাবেই ‘অক্ষয়’ করে তুলব।”

©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ১ মে ২০২৫




Share:

নিরুদ্দেশ

নিরুদ্দেশ - বাংলা গল্প

      নিরুদ্দেশ    

অফিস থেকে বেরিয়েই মোটামুটি প্ল্যানটা সেরে নিয়েছিল সৈকত। রিমঝিমের অনেক দিনের আবদার মেটানোর এর থেকে ভালো সুযোগ আর পাবে না। সামনে তিন দিনের লং উইকেন্ড, আর দুদিন ছুটি নিয়েই ঘুরে আসা যায় বাঙালির দিপুদার পুরীতে। সদ্য কেনা গাড়ির ড্রাইভিং হুইলে বসার লাইসেন্স পেলেও এতখানি রাস্তা পাড়ি দেওয়ার মত কলজের জোর হয়নি। আর তাই ফোন করেছিল পাড়ার সনাতনদা কে।
মাঝবয়সী সনাতনদা পেশায় গাড়ি চালায় না নেশায়, তা বোঝা দায়। ড্রাইভার হিসেবে এবং ভদ্রলোক হিসেবে যতটা বিশ্বস্ত ততটাই অবিন্নস্ত হিসেবি আদব কায়দায়। তাই অনেক সময় খেটে খুটেও ঠিকঠাক টাকা-পত্তর পায় না। আবার কখনো কাজের জোগান থাকলেও, কোথায় যে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় বাড়ির লোকও তার পাত্তা পায় না। এই সনাতনদার আবার কোন নেশা ভানের স্বভাব নেই, তা যেন ড্রাইভারি লাইনে দৈত্য কুলে প্রহ্লাদ এর মত ব্যাপার। তো সনাতনদাকে ফোন করাতে বলল, “ তোমার কোন চাপ নেই ভায়া। লাইফে বোধহয় একশো বার কলকাতা পুরী করেছি। তোমাদের দুজনকে নিয়ে যাওয়া আসা ছাড়াও লোকাল সাইট সিনের গাইডের কাজও করে দিতে পারব। তাহলে কি তোমার বাড়ি গিয়ে গাড়িটা একটু ধুয়ে মুছে রাখবো নাকি?”
তক্ষুনি ওর উৎসাহে কিছুটা জল ছিটিয়ে বিরত করি গাড়ি পরিষ্কার করতে, পাছে পুরো সারপ্রাইজটাই নষ্ট হয়ে যায়। মোটামুটি থাকা খাওয়া ছাড়া ওর সাথে গাড়ি ভাড়া বাবদ টাকার ব্যাপারে রফা হয়ে যায়। ফেরার পথে কিছু স্ন্যাকস আর ড্রাই খাবার দাবার নিয়ে বাড়ি ফিরল সৈকত।

সব কিছু শুনে রিমঝিমের তো আর মনে আনন্দ ধরে না, কিন্তু ম্যাডাম মুখে বললেন, “হঠাৎ করে এরকম প্ল্যান করলে, বাবা মাকে না নিয়ে যাবে। এটা কি ঠিক দেখাবে?” রিমঝিম আসলে আজকালকার গড়পরতা মেয়েদের তুলনায় অনেকটাই পারিবারিক। তাই শ্বশুর শাশুড়িকে চেষ্টা করে সব সময় আগলে রাখতে। ঘোরাঘুরির সময় সঙ্গে নিয়ে যেতে। সৈকতের তাতে আপত্তি না থাকলেও সব সময় এই প্রচেষ্টা মেনেও নিতে পারে না সে। তাতে ওদের নিজেদের জন্য নিজস্ব সময় যে বেশ কিছুটা ব্যয় করতে হয়। রিমঝিমের সাথে এই নিয়ে মাঝে মাঝে খিটিমিটি লাগে সৈকতের। তবে এবার আর বেশি কাঠ খড় পোড়াতে হয় না।

বাবা নিজেই আপত্তি জানায় সোমবার কিছু ব্যাংকের জরুরী কাজের অছিলায়। যদিও বাবার ব্যাংকের জরুরী কাজ বলতে হয় পাস বুক আপডেট, না হয় কেওয়াইসি জমা দেওয়া। তবে এবার মনে হয় বাবা ইচ্ছে করেই সৈকতের মনের কথা বুঝতে পেরে গিয়ে ওদের একটু স্পেস দিতে চাইলো। মনে মনে ভাবল সৈকত, “আফটার অল বাপ বাপই হতে হ্যয়।”

ঘড়িতে ভোর ছটা। একটু আগেই বেল বাজিয়ে খবরের কাগজটা বারান্দায় ছুঁড়ে দিয়ে গেছে রতন। রেডি হয়ে প্রায় বেরোতে যাবে আবার বেলটা বেজে উঠল। সৈকত গেটটা খুলে দেখে, পাশের বাড়ির বিকাশ জেঠু। “কিরে, নতুন গাড়ি কিনে জেঠুকে একবারও ঘুরতে নিয়ে গেলি না। আর এদিকে দুজনে ভোর ভোর উঠে পালিয়ে যাচ্ছিস।”
“আরে পালিয়ে কোথায় যাচ্ছি জেঠু, এই দুদিন ছুটি আছে বলে তোমার বৌমাকে নিয়ে একটু জগন্নাথ দর্শন করতে যাচ্ছি। তোমার জন্য কাকাতুয়ার জিভেগজা আনব তো? ভয় নেই জেঠিমাকে বলবো না তোমার ওই কার্তিকের দোকানে বিকেলে বসে বসে জিভেগজা সাঁটানোর কথাটা।” শুনে জেঠু একটু বিমর্ষ হয়ে ওদের সাবধানে যাবার উপদেশ দিয়ে হাঁটতে বেরোলেন।
কিছুক্ষণ পরেই সনাতন দা একদম ফিটফাট হয়ে হাজির। মুহূর্তে সব গাড়ির দিকে তুলে নিয়ে ওরা যাত্রা শুরু করল পুরীর উদ্দেশ্যে। প্ল্যান মত ঠিক হল প্রথম দিনে হল্ট করা হবে ভুবনেশ্বরে। সময় থাকলে ঘুরে নেওয়া হবে নন্দনকানন আর আশপাশের এলাকা। পরের দিন সকালে যাওয়া হবে পুরীর উদ্দেশ্যে।

এখন এন এইচ সিক্সটিন বেশ সুন্দর। অনায়াসে গতি উঠে যায় একশোর উপরে। তাই সরকার স্পিড লিমিটের গণ্ডিতে বেঁধে দিয়েছে দুর্বার গতিকে। কিছুটা হলেও কমানো গেছে দুর্ঘটনার প্রবণতা। যাত্রাপথ যতই এগিয়েছে ততই মনোরম হয়েছে প্রকৃতি। আর সাথে সাথে সনাতন দার অগাধ জ্ঞান। মাঝে মাঝে বিরক্ত লাগছিল সৈকত রিমঝিমের। যদিও পরিচিত বয়ঃজ্যেষ্ঠ হওয়ার জন্য ওরা কিছু বলে না। নির্দিষ্ট দিনে পৌঁছে যায় সমুদ্র সৈকতে। এটাই ছিল ওদের পুরীর হোটেলের নাম। এই কটা দিন নিভৃতে কাটিয়ে ফেলে দুইজনায়। দেখতে দেখতে এসে যায় ওদের ফেরার দিন।

কাল সকালে ওদের বাড়ি ফেরার পালা। রিমঝিম বলে, “সত্যিই সেই হানিমুনের পর এবার বোধহয় প্রথম দুজনে ঘুরতে এলাম। তোমার কথা না শুনলে খুব মিস করতাম।” সৈকত বলে, “এই কটা দিন আমাদের জীবনের অক্সিজেন। আবার ফিরে গিয়ে সেই এক দৈনন্দিন জীবন।”

পর দিন ভোরবেলা মোটামুটি দুজনে রেডি। হোটেলের ম্যানেজারকে আগে থেকে বলে রাখায় ওদের জন্য প্যাক ব্রেকফাস্টের ব্যবস্থা করে রেখেছে। কিন্তু পাংচুয়াল সনাতনদার কি হল? এখনো এসে পৌঁছয় নি কেন? অন্য দিন তো আধঘন্টা আগে এসে গাড়ি ফাড়ি পরিস্কার করে ওদের হাঁকাহাঁকি করে। ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসা করাতে বলল, “ওই সামনের দিকের ড্রাইভার্স ডরমেটরিতে আছে আপনাদের ড্রাইভার। একবার গিয়ে দেখতে পারেন।”

ওখানে গিয়ে সৈকত পড়লো মহা বিপদে। ডাকাডাকি সত্বেও সনাতনদার ঘুম কিছুতেই ভাঙ্গে না, যেন পুরো অচৈতন্য। একটু স্পর্শেই বুঝল, পুরো নিস্তেজ। জলের ঝাপটায় সংজ্ঞা ফিরলেও কেমন যেন চোখ মুখ অসাড়। ম্যানেজারকে বলাতে একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে লোকাল হসপিটালে একবার নিয়ে যেতে বলল। ততক্ষনে হোটেলে থেকে চেক আউট হয়ে গেছে। রিমঝিমকে হোটেলের রিসিপশনে বসিয়ে সৈকত ছুটল হসপিটালে। সরকারি হাসপাতালে আউটডোরের টিকিট করিয়ে ডাক্তারকে একটুখানি রিকোয়েস্ট করল গাড়িতে এসে পেশেন্টকে দেখে দেওয়ার।
অনেক টালবাহানার পর প্রায় আধ ঘন্টা কেটে গেছে। ফোনে এক বন্ধুর সাথে ইতিমধ্যেই পরামর্শ সেরেছে সৈকত। তার কথামতো অ্যাম্বুলেন্সেরও একটা ব্যবস্থা করেছে। আর ফোন করেছে সনাতন দার বাড়ির লোককে। সনাতনদার ছেলেটি সদ্য কলেজে ঢুকেছে। খবরটা শুনেই বেরিয়ে পড়েছে ওখানকার উদ্দেশ্যে। ইতিমধ্যে খানিকটা দয়াপরাবশ হয়ে লোকাল ডাক্তার বাবু ফাইনালি সৈকতের সাথে এলেন গাড়ির কাছে। গাড়ির ড্রাইভারটা বনেটের পাশে বসে মনের সুখে বিড়ি খাচ্ছে। ডাক্তার বাবু নাড়ি দেখে বললেন, “হি ইজ নো মোর।”

শুনে কিছুটা যেন ভেবলে গেল সৈকত। এইমাত্র বাড়ির লোককে খবর দিয়েছে যে লোকটা বেঁচে আছে। কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারে না সে। এদিকে রিমঝিমও অস্থির হয়ে পড়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের লোকটা এসে বলছে দাদা কখন যাবেন। তাকেই বা কি বলবে সৈকত? পেশেন্ট এখন ডেড বডি হয়ে গেছে, অ্যাম্বুলেন্সের বদলে দরকার শববাহী গাড়ি! আর ডাক্তার যা শুনিয়ে গেল এ তো পোস্টমর্টেমের কেস। এবার তো পুরোপুরি ফেঁসে যাবে সৈকত। ইতিমধ্যেই মাছিরা ভনভন করতে শুরু করে দিয়েছে চারিদিকে। কেউ বলছে দাদা আপনাকে তো থানায় যেতে হবে। ড্রাইভারটাও এক্সট্রা হাজার খানেক টাকা চাইছে। ডেড বডি আছে, তাই ওকে নাকি পুরো গাড়িটাই ধুতে হবে। সৈকত পুরোপুরি পাস্‌ল। ইতিমধ্যে যেন ভগবানের দূতের মতো উদয় হয় এক হাসপাতাল কর্মচারীর। সৈকতকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে বলে ওর সাথে ভিতরে যেতে। লোকটার কথায় কি যেন একটা ছিল। অগ্র পশ্চাদ না ভেবে লোকটার পিছু ধরে সৈকত। ভিতরে কারো সাথে কথা বলে একটা ট্রলি বেড নিয়ে বেরিয়ে আসে সে। তারপর ওকে নিয়ে আবার যায় গাড়ির কাছে। সৈকতের সাহায্য নিয়ে বডিটাকে বের করে নিয়ে আসে ট্রলিতে। তারপর ঠেলতে ঠেলতে ঢুকিয়ে দেয় ভিতরে। পিছন পিছন যেতে যেতে সৈকত বুঝতে পারে পৌছে গেছে মর্গে। কিছু টাকার বিনিময়ে সনাতনদার বডি ঢুকে যায় মর্গের খোপে। একটু আগের জলজ্যান্ত লোকটা কিভাবে যেন পরিণত হয় একটা লাশে। চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে থাকে সৈকতের।

এদিকে সনাতনদার ছেলেও করে চলেছে ক্রমাগত ফোন। কি জবাব দেবে তাকে? ইশারায় কার ফোন জেনে সৈকতের কাঁপা কাঁপা হাত থেকে ফোনটা ছিনিয়ে নেয় ওই লোকটা। আর স্বাভাবিক গলায় ফোনের ওপারে জানিয়ে দেয় সেই অমোঘ সত্যি। এরপর সৈকতকে বলে, “আপাতত ঘন্টা তিন চারেক আপনার এখানে কোন কাজ নেই। আপনি বরং হোটেলে চলে যান। আমি আপনার নাম্বারটা নিয়ে রাখছি। ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার টাইমে আপনাকে ডেকে নেব।

এরপর কেটে গেছে প্রায় চব্বিশ ঘন্টা। হোটেলের ম্যানেজারের ঠিক করে দেওয়া ড্রাইভারকে সাথে নিয়ে ওরা ফিরছে বাড়ির পথে। দেবদত্ত নামের ওই মানুষটিকে ফিরে আসার আগে কিছু টাকা দিতে যায় সৈকত। কিছুতেই রাজি হয় না সে, “বলে, আপনি আমার জায়গার অতিথি। এই জিনিস আপনার রাজ্যে ঘটলে আপনিও কি একইভাবে সাহায্য করতেন না আমাকে?”
খটকা লাগল সৈকতের। সত্যিই কি এরকম নিঃস্বার্থ উপকার করতে পারত সে। ধীরে ধীরে সন্ধ্যে নেমে আসে। ওরা ঢুকে পড়ে রাজ্যের সীমানায়।

©Ayan

রচনার তারিখ: ২১শে জুলাই ২০২৪

বাংলা-গল্প bangla-golpo
#Bengalistories #AyanPaul #shortstories #detectivetales #Bengaliliterature

Share:

জামাইষষ্ঠী

জামাইষষ্ঠী-বাংলা-গল্প

জামাইষষ্ঠী

আজ লালুর বন্ধু শুভর বিয়ে। অনেকদিন ধরেই বন্ধুরা খুব মজা করবে ভেবে রেখেছে। ওদের সবার সেই আইবুড়ো ভাত থেকে নিমন্ত্রণ। ভালোই মজা করছে সবাই মিলে। আজ বিয়ের বাসর রাতে বেশ আড্ডা দেওয়ার প্ল্যান সকলের। এদিকে মেয়ের বাড়ি থেকে যে বিয়েবাড়ি টা ভাড়া নিয়েছে, সেটা খুব একটা জুতসই নয়। সেই পুরনো আমলের পেল্লাই পেল্লাই দরজা। ঠিকমত জানলার পাল্লা গুলোও আটকায় না বোধহয়। এতক্ষন লোকজন ছিল বলে তেমন ঠাণ্ডা টা বোঝা যাচ্ছিল না। এবার খাওয়া দাওয়ার পর বেশ মালুম পড়ছে। আর আজ শীতটাও পড়েছে বেশ জাঁকিয়ে। লালু চিরকালই বেশ সৌখিন প্রকৃতির। এরকম ভাবে বাসর ঘরে বসে থেকে কনের বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার থেকে বাড়ির নিশ্চিন্ত ঘুম টা ওর বড় প্রিয়। শুধু একা একা এখান থেকে কাটলে ব্যাপারটা বেশ বাজে হবে। তার থেকে আর একজন কাউকে সঙ্গে টেনে নিতে হবে। আর তারপর কাল সকালে কিছু একটা ঢপ দিয়ে দিলেই চলবে।
যেই না ভাবার অমনি কাজ। শৌভিকের আবার একটু গলা না ভেজালে উইকএন্ড জমে না। লালু ভাবল, ওকেই পটানো যাক। আড়ালে ডেকে নিয়ে গিয়ে শৌভিককে বাড়ি নিয়ে যেতে রাজি করালো লালু। স্কুটিটা তো ছিলই, এবার ফাঁক তালে কেটে পড়তে হবে।
রাত প্রায় দেড়টা। খানিক বাদে সুযোগ পেতেই দুজনে বেরিয়ে পরে। স্কুটি টা নিয়ে প্রায় নিঃশব্দে উধাও হলো বিয়ে বাড়ির সামনে থেকে। কিন্তু গলির মুখে যেতেই একদল কুকুর ধাওয়া করল ওদের দিকে। যেন নিঃশব্দে বসে ছিল ওদের আসার প্রতীক্ষায়। দুই বন্ধু প্রায় জান হাতে করে আবার মুখ ঘোরালো বিয়ে বাড়ির দিকে। আর একটা শর্টকাট রাস্তা ছিল বাড়ির দিকে যাওয়ার। ধীরে ধীরে সেদিকে যেতেও জুটে গেল আরেক দল কুকুরের পাল। রাতের শহরে পাহারা দেওয়ার জন্য নাকি ওদের দুজনের কবজি ডুবিয়ে মটন খাওয়ার জন্য সারা গা থেকেই গন্ধ পেয়ে আর ছাড়তে চাইছিল না কুকুরের দল। অগত্যা গাড়ি ঘুরিয়ে আবার সেই বিয়ে বাড়ির সামনে। এমন সময় বোধহয় ওই বিয়ে বাড়ির কেউ বাইরে এসে ওদের ওই অবস্থায় রেখে বেশ অপ্রস্তুত। অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে ওদের বিয়ে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গিয়ে শোয়ার ব্যবস্থা করেন ওনারা। শৌভিক আবার বেশ স্পষ্ট বক্তা। মুখের উপর বলেই বসে, এই ঠান্ডায় এত হাওয়া। এর মধ্যে তো এখানে শোয়া বেশ মুস্কিল। শুনে তো একটু বিরম্বনায় পড়েন ওনারা। শেষমেষ ওই পাড়াতেই থাকা এক আত্মীয়র বাড়িতে ওদের রাতের শোয়ার ব্যবস্থাপনা করে দেন তাঁরা।
সেই থেকেই পরিচয় আর কালের নিয়মে শুভ পরিণয়। শেষ কয়েক বছর ধরে ওই বাড়িতেই জামাইষষ্ঠী খেতে যাচ্ছে লালু। যদিও এভাবে শ্বশুর বাড়ির পাড়ায় আর কোনদিন কুকুরের পাল্লায় পড়েনি সে। মন কে সান্ত্বনা দেয় এই বলে, ওই বিয়ে বাড়ির মটনের মত মটনও খায়নি যে আর।
©Ayan

রচনার তারিখ: ১২ই জুন ২০২৪

বাংলা-গল্প bangla-golpo
#Bengalistories #AyanPaul #shortstories #detectivetales #Bengaliliterature

Share:

ন্যাড়া বেলতলায় ক বার যায়

ন্যাড়া-বেলতলায়-ক-বার-যায়-bangla-golpo

ন্যাড়া বেলতলায় ক বার যায়                              বাংলা-গল্প


- খবর টা দেখেছিস? দেখেছিস তোরা?
গ্রুপে হঠাৎ রাতের দিকে মেসেজ ঢুকেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখল সোমনাথ। আজকাল দাঁত মাজার আগেই মোবাইল চেক করাটা একটা স্বভাব বা বলা যায় বদভ্যাস। কিন্তু সে কি আর কেউ ত্যাগ করতে পারে, তাতে যতই গৃহ শান্তি বিঘ্নিত হোক না কেন। কেউ কেউ আবার মোবাইল কে নিজের সতীন বলেই দেগে দিয়েছে।
তো যাইহোক, প্রাথমিক জড়তা কাটিয়ে ঘুম জড়ানো চোখেই দেখে, তবু বিশ্বাস করতে মন চায় না।
এটাও কি সম্ভব! চুরির চাকরি চলে যাচ্ছে তাও একটা কথা, কিন্তু এটাও কি হতে পারে?
স্কর্ল করতে করতে গ্রুপে দেখতে থাকে সবার কমেন্ট। সবাই বেশ উত্তেজিত বিষয় টা নিয়ে। এভাবেও যে ভোটের বাজারে জনগণের খেয়াল রাখা যায়, সেটা ভেবে আবার বেশ কিছু গুন মুগ্ধ সাধুবাদ জানাতে লাগল। কেউ বলছে এখন থেকেই নতুন খুঁজতে হবে। কেউ আবার পুরোনো ফোন থেকে নাম্বার খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কেউ আবার বলেছে, এবার রোজ পার্টি। ও পাড়ায় আর না।
হঠাৎ মোবাইলটা ছিনতাই হয়ে গেল নিজের বেডরুমেই। সুজাতা মানে সোমনাথের গিন্নি প্রায় অজান্তেই নজর রেখেছিল ওর ভোরের কার্যকলাপে। আর মনোযোগী চোখে স্কুলের গ্রুপের চ্যাট হাতে পড়লে যে কি হতে পারে, সে যারা ফেস করেছে, তারাই জানে।
কিন্তু সুজাতা এমন মন দিয়ে কি দেখছে?
লাফিয়ে উঠে খাটে বসেই বলল সুজাতা, বাঁচলাম। এতদিনে ভগবান মুখ তুলে তাকিয়েছে। এই রকম গণতন্ত্র সকলেই চায়। এই না হলে সরকার। এবার দেখি সোমনাথ বাবু, কোথায় পালান আপনি।
আমি তো বাবা, ঝাড়া হাত পা। কাউকে পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই।
এতক্ষণে সোমনাথ ধরতে পেরেছে কেস টা। একটু টাইম নিয়ে বলল, ভালো করে পড়েছ লেখাটা? আর একবার দেখো তো ভালো করে, লেখা টা তুলে ধরল ওর সামনে।
"২০১০-২০২৪ এর সমস্ত বিয়ে বাতিল।"
আমাদের টা তো ২০০৯ এর ডিসেম্বরে। একটুর জন্য তোমার সুখ টা পণ্ড হল। যদিও একটা অ্যাপিল করতে পারো আর এক বছর বাড়ানোর জন্য।
গোমড়া মুখে মোবাইল টা ছুঁড়ে দিল সোমনাথের দিকে।
সোমনাথ হেসে বলল, আরে মোবাইলটাকে তো আর বাতিল করেনি। একে যত্নে রাখো।
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ২৫শে মে ২০২৪

বাংলা-গল্প bangla-golpo
#Bengalistories #AyanPaul #shortstories #detectivetales #Bengaliliterature

 

Share:

জিপিএস

GPS-bangla-golpo

জিপিএস                                                                                                                             বাংলা-গল্প

স্টপেজে দাঁড়িয়ে আছে নীল। অফিস ফেরত অ্যাপ শার্টল ধরবে বলে। গাড়িটা সার্ভিসে থাকায় নির্ভর করেছে এর ওপর। অনেকদিন পর দাঁড়িয়ে আছে এই স্টপে। এই জায়গার কত গল্প আছে। এরকমই এক দিনে আলাপ হয়েছিল তিতিরের সাথে। অফিস ফেরত দেখা পাবার জন্যে সে কি ব্যাকুল প্রত্যাশা। প্রথম প্রথম তো টাইম টা ম্যাচ করতে গিয়ে অংশুমান দার কাছে প্রায় ধরা পড়ে যায়। অংশুমান দা তখন টিম লিড, তবে বেশ মাই ডিয়ার লোক ছিল। সব শুনে ওকে ঠিক ইভনিং কল থেকে রেহাই দিত। অবশ্য লোকে তার জন্য বেশ হিংসা করত নীল কে। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে নিজের সাথে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত আলাপ জমাতে পেরেছিল। তারপর সময় যে কিভাবে হু হু করে বেরিয়ে যায়।
হঠাৎ পি পি করে মোবাইলে অ্যালার্ট টা আসতেই ঘোর কাটল নীলের। দেখে, শার্টল টা না দাঁড়িয়েই হুস করে বেরিয়ে গেল। গোধূলির আলো গায়ে মেখে এই সুন্দর দিবা স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটে এইভাবেই।
অগত্যা, আবার পরের শার্টল টাইমের খোঁজে ফোনে ডুবে যাওয়া। আর এখন অফিস ফিরতি কোনো স্টপেজে অফিস টাইমে দাঁড়ালে একই দৃশ্য দেখা যায়। সবার চোখ আটকে আছে মোবাইলের স্ক্রিনে, জিপিএসের যাত্রাপথে। যে একসময় রাস্তা চেনাতো শুধু, আজকে সে গন্তব্যের অন্যতম হাতিয়ার। জীবনের দাম যতো টা কমে গেছে আর সেই রকমই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সময়ের দাম।
তো সেই মূল্যবান আধ ঘন্টা সময় অতিবাহিত করে ফাইনালি নীল পেল বাড়ি ফেরার দূত। গাড়িতে উঠে ফাঁকা সিট খুঁজতে খুঁজতে শেষের আগের সিট টায় ধপাস করে বডি টা ফেলে নিশ্বাস নিল নীল। টু বাই টু সিটের ধারের সিটটায় বসল ও। এই গরমে প্রায় চল্লিশ মিনিট সেদ্ধ হওয়ার পর গাড়ির এসি টা যেন মুক্তির স্বাদ। চোখ বুজে কয়েক মিনিট তা আস্বাদন করতে লাগল নীল।
-এত বছরেও স্বভাব কিছুই বদলায়নি দেখছি।
এতক্ষণে অনুভব করল পাশের সিটে বসে থাকা বসে থাকা মহিলা কে।
-তুই!!!
-সেই তো দেখছি। স্বভাব একই রয়েছে তোর।
-তাই তো চিনতে পারলি আমায় এতদিন পর, আর ভাব এর জন্যই দূরে সরে গিয়েছিল আমাদের জিপিএস।
-জিপিএস?
-গ্লোবাল পার্সোনাল স্পেস
-তা ছিলি কোথায় এতদিন?
-এই তো, জনতার মাঝে জনতার দরবারে। তুই তো বিদেশে জমিদারি বসিয়েছিলিস, সব ছেড়ে ফিরে এলি কেন?
-যার জমিদারি তে পোদ্দারি করছিলাম, তার সাথেই পোশালো না যে। জানিস, ফিরে এসে তোকে খুঁজেছি অনেক সব সোস্যাল মিডিয়ায়, কিন্তু পাইনি।
-হুম, আমি ওই জগৎ থেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম নিজেকে। পাছে তোর খবর পেয়ে ছুটে চলে যাই সাত সমুদ্র তেরো নদীর পাড়ে।
-আর দেখ, আমাদের একযুগ পরে আবার দেখা হল সেই একই যাত্রাপথে।
এমন সময়ে মোবাইল নোটিফিকেশান, এসে গেল নীলের বাড়ির স্টপ। আরো তিনটি পরে ছিল তিতিরের স্টপ। পিছনে না ফিরেই নেমে গেল সে।
তিতিরকে বললো না ওর গোধূলি স্বপ্নের মায়া জালের বিবরণ। একই আঘাতে আর আহত হতে চায় না সে। রাস্তায় নেমে পকেট থেকে সিগারেট টা বের করতে যাবে, পিছন থেকে কে যেন হাত টা টেনে ধরল।
ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে, টানা টানা চোখে জল টলমল। সিগারেট টা টেনে ফেলে দিয়ে বলল,
-নাম্বার টা দে। জিপিএস টা কমাতে হবে তো

©️কলমে_অয়ন
রচনার তারিখ: ৭ই এপ্রিল ২০২৪

বাংলা-গল্প bangla-golpo
#Bengalistories #AyanPaul #shortstories #detectivetales #Bengaliliterature

 

Share:

কলিগ কলিং

 

colleague-calling

"কি করো সংসারে আমার জন্যে? একটা রবিবার ও ছুটি পাই না, তারপর আবার তোমার মা তোমার বোনের সাথে তুলনা করে বলে, দেখো আমার মেয়েটা সারাদিন চাকরি করে আসে, ফিরে আবার রাতের খাবার গরম করে।" রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অপর্ণা শোনাতে থাকে সুমিত কে।
"ঠিক আছে, কাল আমি সব করে দেবো, তোমায় কিছু করতে হবে না।" তাৎক্ষণিক ঝগড়া থামানোর মোক্ষম দাওয়াই।
কারণ অপর্ণা নিজেই তারপর বলবে, "থাক, অনেক হয়েছে। একটা কাজ করে আমার সারাদিনের কাজ বাড়িয়ে দেবে।"
কিন্তু সেদিন হঠাৎ তিনশো ষাট ডিগ্রি ঘুরে বলে, "ঠিক আছে, তাই ক'রো তাহলে।"
সুমিত যেন চোখে সর্ষে ফুলের ক্ষেত দেখতে পেল। ঘুম উড়ে গেল চোখ থেকে। ভাবতে থাকে কিভাবে ড্রিবল করবে এই পরিস্থিতি কে।
অনেক রাত পর্যন্ত ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় চলতে থাকে নানান ছকের পরিকল্পনা। শেষ পর্যন্ত সব ব্যবস্থা করে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে ও।
সকালে ঘুম চক্ষু খুলেই প্রাতঃকর্ম করতে বাথরুমে ঢুকল সুমিত।
এই সময়ে ফোন এলো রাজা দার থেকে, অফিসের সিনিয়র।
অপর্ণা ফোন টা নিয়ে এসে বলল, কথা বলো, ফোনটা স্পিকারে দিচ্ছি।
পশ্চাদের বেগ আটকে চিৎকার করে বারণ করে সে। কিন্তু তার আগেই স্পিকারে অন হয়ে আসছে রাজা দার স্বর।
"শোন, এখন অপর্ণা আছে তো সামনে, তাহলে শুরু করি তোর শেখানো কথা গুলো। ফোন টা স্পিকারে দে তাড়াতাড়ি।
একটু পজ নিয়ে, "তোকে এখুনি আসতে হবে অফিসে। ক্লায়েন্ট আজই দেখতে চায় প্রেজেন্টেশন। তুই একবার ল্যাপটপ টা খোল তো।"
আবার একটু পজ দিয়ে "ঠিক আছে তো, চলে আয় অলি তে, অনেকদিন পর একটু জমিয়ে বসা যাবে।"
সুমিত বাথরুমে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। আর বাইরে অপর্ণা শুধু ফোন টা কাটার আগে বলল, "ধন্যবাদ রাজা দা।"
আজ প্রমিসটা সত্যিই রাখতে হবে দেখছে সুমিত।
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ১১ই ফেব্রুয়ারী ২০২৪

Share:

চিট ডে

 

cheat-day

মেয়ে স্কুল থেকে এসে সবে হাত মুখ ধুয়ে আসতে গেছে, এর ফাঁকে মেয়ের ব্যাগ থেকে চকোলেট টা বের করে মুখে চালান করে দিল রুমি।
বেশ আয়েশ করে তারিয়ে তারিয়ে চকোলেট টা খাচ্ছে, মেয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে বলল, "তুমি আবার আমার চকোলেট নিয়ে খাচ্ছ? এমন করলে আর ডায়েট করবে কিভাবে?"
আরে ওসব তো সারা বছরই আছে। আজ একটু ব্রেক নিয়েছি। ওই তোরা যাকে বলিস চিট ডে।" মুখে বললেও ভালই জানে যে এই ব্রেক ফেল হতে হতে বছর শেষ হয়ে যায়। গঙ্গা যমুনায় জলের প্রস্থ ওর নিজের প্রস্থের সাথে ব্যস্তানুপাতিকে কমতে থাকে। কিন্তু তা ব'লে এসবের লোভ কি ছাড়া যায়! রুমির মায়ের কম বয়স থেকেই ডায়বেটিস ছিল আর তাতেই বেচারা সারা জীবন না খেয়েই মরে গেল। আজ নয় কাল ওরও ডায়বেটিস ধরা পড়লে তো বাধ্য হয়েই সব ছাড়তে হবে। স্বামীকে হারানোর পর মেয়ের যে একমাত্র অবলম্বন সে নিজেই।
চকোলেট টা শেষ করে র‌্যাপার টা ফেলতে যাবে, দেখে পিছনে লেখা রয়েছে-
"হ্যাপি চকোলেট ডে টু মাই ভ্যালেন্টাইন"
চোখ তুলে দেখে দরজার আড়াল থেকে মুচকি হাসছে মেয়ে।
দৌড়ে গিয়ে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে রুমি।
©️কলমে_অয়ন

রচনার তারিখ: ৯ই ফেব্রুয়ারী ২০২৪


Share:

মোট পৃষ্ঠাদর্শন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.